অমিত কুমার মাঝি

 

ছড়ানো-ছিটানো কাঠ-বাঁশ-লাঠি,
আর খড় বা টিনের আয়তকার জিনিস।
দড়ি-দড়া বা পেরেক আছে তাতে।
এদিকে-ওদিকে ছড়ানো-ছিটানো মৃতদেহ,
গন্ধ বের হচ্ছে না… খুব ছোট্ট ছেলে
তার মধ্যে হাত-পা ছুঁড়ছে… এক দল
কুকুর এসে তাকে ভাগাভাগি করে নিল।
অলিতে-গলিতে ছেঁড়া কাটা রমণীর লাশ,
বাসি নয়, টাটকা… কিছু দূরেই গাড়ির শব্দ–
পুলিশ আসার… জনতার চিৎকার শোনা যাচ্ছে।
মাঝেমাঝেই মিছিল-মিটিং-গাড়ির ছোটাছুটি…
আর রক্তপাত।
‘নতুন শক্তিশালী জাতি গড়ব’ – শুনছি মাঝেমাঝেই।
ভাবলাম, এসবের পরিবর্তন করতেই হবে।
রক্ত আমার গরম হয়েছে, চুলগুলো খাড়া।
এগোতে গিয়ে দেখি বিছানা থেকে উঠছি… ও, স্বপ্ন।
কিন্তু বাতাস বইছে বাইরে।

আকাশলীনা

 

মাঝ-আষাঢ় এলেই আমার ঘরের ভিতর
জেগে উঠত আর একটা ঘর,
সে স্বপ্ন।
প্রথম বর্ষায় ফুটত বেল, জুঁই, কামিনী,
শ্বেতটগর আর বিলের জলে শালুক,
বাদল দিনে মেঘলা আকাশে মন-মাঝি নৌকা নিয়ে
উজানে ভেসে যেত জলের দিকে চেয়ে।

জোলো বাতাসে স্কুল ফেরৎ নীলপাড় সাদা শাড়ির আঁচল
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে উড়ে যেত দূর দিগন্তে।
ও-আঁচল একসময় আপনিই ফিরে আসত কাছে
কোমরে গুঁজতে গিয়ে দেখা –
সে মাথায় বৃষ্টি আড়াল করেছে ওই আঁচল টেনে
ষোল বছরের লজ্জা চোখে, নীচু মুখে
আস্তে আস্তে টানা আঁচল ঝর্ণার মতো
নেমে আসত চোখ, নাক, ঠোঁট বেয়ে। জলে পা দিয়ে
একছুটে পেরিয়ে যেতাম ইস্কুলের ডাঙা।
সে জোলো হাওয়ার সাথে ছুটে আসত পিছন পিছন
আর বলত – “আকাশ একা যাস না,
মাঠের জলে ঢোঁড়া সাপ আছে, আমার হাত ধর,
নইলে পড়ে যাবি পা পিছলে।”
কাদা-ঘাস ঢাকা আলপথে ধানগাছের
গা ছুঁয়ে, সদ্য যৌবনে পা দেওয়ার অনুভূতি নিয়ে
দু’হাত এক হয়ে জল ছিটিয়ে হাঁটা।
তারপর ও একদিন হারিয়ে গেল ভরা স্রোতে,
ধরা গেল না।
কত বছর হলো খুঁজে চলেছি তাকে…

আজ তার সন্ধান পেয়েছি।
সে অনেক অনেক জলের তলায় আমার দিকে চেয়ে আছে।
দ্বীপের মতো ভাসন্ত তার গায়ে
আমার ছায়া দোল খাচ্ছে মেঘভাসি সুরে।
আকাশের ছবি চোখে নিয়ে
শেষ আষাঢ়ে এই ঘন বর্ষায়
আমার সাথে ভাসছে নদীর জলে
নৌকার পাটাতনের নীচে।

অভীক দাস

 

নারকেলতলার মাঠে গাদা লোক জমেছে।
সাপুড়েরা ঝাঁপ ফেলেছে একে একে,
মাঠ যেন থই থই।
বালিকার সারির মধ্যে আমার চোখ খুঁজেছে
চেনা একজোড়া নরম চোখ,
শান্ত দীঘিতে নীলপদ্মের মতো ফোটা,
কাঠবেড়ালির মতো লাফিয়ে ফেরে আমার চোখের উপর…।
কেমন করে পাবে?
নাতিটা এসে বায়না ধরল
“দু’টাকা দাও, সাপ খেলা দেখব।”

ক’টা পদ্ম পেরেছি তুলতে।
ইশকুল যাবার পথে,
ঢাল বরাবর দীঘিতে নামতে নামতে
প্যান্টুল গেছে ছিঁড়ে, বাবলা কাঁটায়;
বড্ড ভেজা ভেজা, চুঁইয়ে পড়ছে সরু কাঁটার
মতন পাট পচানি জল।
পাঁকে পোঁতা পা, তার মসৃণ গন্ধ বেয়ে
লাফিয়ে উঠে আসতে চাই
চোরাবালি থেকে…।
সত্যি, একদম খেয়াল থাকে না বয়সটার।

About this blog

hit counter

Sample text

ফেসবুকে আমাকে ফলো করুন

ভিজিটর কাউন্ট

Resources

মোট পোস্ট হল

জনপ্রিয় পোস্ট গুলি

আজকের তারিখ হচ্ছে

Powered by Blogger.

Ads 468x60px

Social Icons

সমস্ত পোস্ট গুলি এখানে

Featured Posts